দাম্পত্য জীবন সুখের রাখতে দ্রুত বীর্যপাত সমস্যার প্রাকৃতিক ও স্থায়ী সমাধান
দাম্পত্য জীবনে যৌন স্বাস্থ্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকেরই মনে পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, সবচেয়ে কমন এবং অস্বস্তিকর একটি সমস্যা হলো দ্রুত বীর্যপাত বা প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন (Premature Ejaculation)। একটু দ্রুত বীর্যপাত হয়ে গেলেই অনেকে হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো স্থায়ী বা বড় কোনো রোগ নয়। সঠিক নিয়ম এবং কিছু বৈজ্ঞানিক টেকনিক মেনে চললে এই সমস্যা সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
আজকে আমরা আলোচনা করব ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে দ্রুত বীর্যপাত রোধ করা যায় এবং সঙ্গীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দেওয়া যায়।
১. সমস্যাটিকে স্বাভাবিকভাবে নিন এবং হতাশ হবেন না
প্রথমত, আপনার যদি মাঝেমধ্যে দ্রুত বীর্যপাত হয়ে যায়, তবে এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বিশেষ করে নবদম্পতিদের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে এমনটি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। এটিকে একটি দুর্ঘটনা বা সাময়িক বিষয় হিসেবে ধরে নিন। প্রতিবার মিলনে যাওয়ার আগে যদি আগের ব্যর্থতার কথা ভেবে আতঙ্কিত হন, তবে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
২. সহবাসের আগে সঙ্গীকে পরিতৃপ্ত করুন (Foreplay)
পুরুষের তৃপ্তি আসে মূলত বীর্যপাতের মাধ্যমে, কিন্তু নারীদের অর্গাজম বা চরম তৃপ্তি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি ভিন্ন।
- ফিমেল জেনিটালিয়ার অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ হলো ক্লাইটোরিস (Clitoris)।
- মূল সহবাসে যাওয়ার আগে স্পর্শ এবং পর্যাপ্ত উত্তেজনার মাধ্যমে ক্লাইটোরিসকে উদ্দীপিত করে আপনার পার্টনারকে অর্গাজম বা পরিতৃপ্তি দিতে পারেন।
- এটি করতে পারলে পেনিস প্রবেশ না করিয়েই আপনার পার্টনার ৫০% বেশি খুশি ও তৃপ্ত হয়ে যাবেন, যা আপনার ওপর থেকে মানসিক চাপ অনেক কমিয়ে দেবে।
৩. স্টার্ট অ্যান্ড স্টপ টেকনিক (Start and Stop Technique)
পেনিস প্রবেশ করানোর পর তাড়াহুড়ো না করে খুব জেন্টল বা হালকাভাবে পুশ করতে হবে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদ্ধতি হলো 'স্টার্ট অ্যান্ড স্টপ' টেকনিক।
- অনেক সময় মানুষ ভুল বোঝে যে বীর্য বের হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে এসে থামলে কাজ হবে। এটি ভুল ধারণা।
- সঠিক নিয়ম হলো, বীর্য পুরোপুরি কাছে চলে আসার আগেই একটু বিরতি নেওয়া এবং পুনরায় শুরু করা। এভাবে বিরতি দিয়ে দিয়ে চালিয়ে যাওয়াটাই একমাত্র ভালো টেকনিক। পর্নোগ্রাফিতে এডিটিং করে একটানা ১৫-২০ মিনিট দেখানোর বিষয়টি প্র্যাকটিক্যালি অসম্ভব।
৪. ফিমেল জেনিটালিয়ার সংবেদনশীল অংশে ফোকাস করুন
সহবাসের সময় পেনিস খুব বেশি ভেতরে প্রবেশ করানোর চেয়ে বাইরের দিকের তিন ভাগের এক ভাগ সংবেদনশীল অংশে সময় ধরে রাখতে পারলে পার্টনার দ্রুত তৃপ্তি লাভ করেন। লিঙ্গের সাইজ খুব বড় হওয়াটা এখানে মুখ্য বিষয় নয়। এছাড়া 'ওম্যান অন টপ' (Woman on Top) পজিশন ব্যবহার করলে পুরুষদের ওপর থেকে শারীরিক ও মানসিক চাপ কিছুটা কমে যায়।
৫. স্কুইজ টেকনিক (Squeeze Technique)
এত কিছু করার পরও যদি মনে হয় বীর্য বের হয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে, তবে পেনিসটি বাইরে বের করে আনুন। এই ক্ষেত্রে পার্টনারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
- পেনিসের মাঝবরাবর দুই আঙুল উপরে এবং এক আঙুল নিচে রেখে শক্ত করে চেপে ধরতে হবে (স্কুইজ টেকনিক)।
- এভাবে ধরলে বীর্যের বেগ কিছুটা ভেতরের দিকে ফিরে যায় এবং আপনি আরও ২-৪ মিনিট সময় বেশি পেয়ে যান।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে করতে একসময় আপনি অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন এবং এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আসে না; নিয়মিত চর্চা প্রয়োজন।
এগুলোর পরেও যদি আশানুরূপ উন্নতি না হয়, তবে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড এমবিবিএস (MBBS) চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে নিজে দোকান থেকে কোনো ওষুধ কিনে খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ভুল ওষুধে মারাত্মক সাইড ইফেক্ট হতে পারে।
দাম্পত্য জীবন সুন্দর ও সুখের রাখতে ধৈর্য ধরুন এবং সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো মেনে চলুন।
