পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই গর্ভধারণের ১২টি লক্ষণ ও টেস্টের সঠিক সময়

পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই গর্ভধারণের ১২টি লক্ষণ ও পরীক্ষা করার সঠিক সময়
আজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।  আশাকরি আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর এবং সমাধান এখানেই পাবেন। তাই মনযোগ দিয়ে বিস্তারিত পড়বেন।

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে—পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই কি বোঝা সম্ভব যে কেউ গর্ভবতী? বিশেষ করে যাদের মাসিক অনিয়মিত, তাদের জন্য এই লক্ষণগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‎গর্ভধারণের একদম প্রথম সপ্তাহ থেকেই শরীরে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। নিচে পিরিয়ড মিস হওয়ার আগেই খেয়াল করার মতো ১২টি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরিবর্তন বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

‎ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং বা হালকা রক্তপাতঃ

‎গর্ভধারণের ৬ থেকে ১২ দিনের মধ্যে যোনিপথ দিয়ে সামান্য রক্তপাত হতে পারে।কেন হয়? ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনে গঠিত ভ্রূণটি ডিম্বনালী পার হয়ে জরায়ুতে এসে পৌঁছায়। জরায়ুর গায়ে নিজেকে গেঁথে নেওয়ার (ইমপ্লান্টেশন) সময় এই হালকা রক্তপাত ঘটে।

‎মাসিকের সাথে ৩টি প্রধান পার্থক্য: ১. রং: মাসিকের রক্ত গাঢ় বা উজ্জ্বল লাল হলেও ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং হালকা গোলাপি বা বাদামি রঙের হয়। ২. পরিমাণ: এটি খুবই সামান্য পরিমাণে হয় (টয়লেট টিস্যুতে সামান্য দাগের মতো) এবং সময়ের সাথে রক্তপাত বাড়ে না। ৩. চাকা রক্ত: এই রক্তপাতে কোনো চাকা বা জমাট বাঁধা রক্ত থাকে না।

‎উল্লেখ্য: ডাক্তার তাসনিম জারার মতে প্রতি ১০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে মাত্র ২৫ জনের ক্ষেত্রে এই রক্তপাত দেখা দিতে পাড়ে। তাই এটি না হলেও দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

‎স্তনে পরিবর্তন ও অস্বস্তিঃ

‎চিকিৎসকের মতে গর্ভধারণের ১ম বা ২য় সপ্তাহের মধ্যেই স্তনে স্পর্শকাতরতা বা হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে স্তন কিছুটা ফোলা, ভারী বা বোঁটায় শিরশিরে অনুভূতি হতে পারে। এমনকি ব্লাউজ বা ব্রা পরলেও অস্বস্তি লাগতে পারে।

‎ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপঃ

‎গর্ভধারণের পরপরই তলপেট ও কিডনিতে রক্ত চলাচল অনেক বেড়ে যায়। ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। (তবে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা তীব্র ব্যথা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এটি ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে।)

‎পেট ফাঁপা বা অস্বস্তিঃ

‎শুরুর দিকে হরমোনের তারতম্যের কারণে পেটে গ্যাস জমার মতো ফোলা বা ফাঁপা ভাব দেখা দিতে পারে। কোমরের দিকে জামাকাপড় আগের চেয়ে কিছুটা টাইট মনে হতে পারে।

‎হঠাৎ মুড সুইং বা মেজাজ পরিবর্তনঃ

‎মন-মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন ঘটাও প্রেগন্যান্সির হরমোনজনিত একটি সাধারণ লক্ষণ। কোনো কারণ ছাড়াই খুব আনন্দ লাগা বা মুহূর্তের মধ্যেই কান্না পাওয়া কিংবা খারাপ লাগা কাজ করতে পারে।

‎বমি বমি ভাব বা বমিঃ

‎চিকিৎসক এর মতে ডিম্বাণু ফুটে বের হওয়ার ৮ দিনের মাথাতেই কারো কারো বমি ভাব বা বমি হতে পারে। বয়সের ওপর ভিত্তি করেও এটি প্রকাশের সময় ভিন্ন হয়; কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক দ্রুত দেখা দেয়।

‎অতিরিক্ত ক্লান্তিঃ

‎প্রজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে গর্ভধারণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। সাধারণ দৈনন্দিন কাজকর্ম করতেই শরীর বেশ পরিশ্রান্ত মনে হতে পারে।

‎মুখের স্বাদে পরিবর্তনঃ

‎গর্ভাবস্থার শুরুতে নোনতা খাবার বেশি ভালো লাগতে পারে এবং তেতো খাবার অপছন্দ হতে পারে। অনেক সময় মুখে ধাতব মুদ্রা বা পয়সা রেখে দেওয়ার মতো একটি অদ্ভুত স্বাদ অনুভূত হয়।

‎ঘ্রাণশক্তি বেড়ে যাওয়াঃ

‎হঠাৎ করেই ঘ্রাণশক্তি অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠতে পারে। রান্না, মশলা, পচা খাবার, এমনকি পছন্দের সুগন্ধি বা ফুলের গন্ধও অসহ্য বা তীব্র মনে হতে পারে।

‎খাবারে অরুচিঃ

‎আগে খুব পছন্দ ছিল এমন খাবারেও (যেমন: মাছ বা মাংস) হঠাৎ তীব্র অরুচি তৈরি হতে পারে।

‎নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছাঃ

‎হঠাৎ করেই মিষ্টি, টক বা বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগতে পারে, যা সাধারণ ক্ষুধার চেয়ে আলাদা এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়।

‎মাথা ব্যথাঃ

‎শরীরে হঠাৎ হরমোনের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার কারণে গর্ভাবস্থার শুরুতে ঘন ঘন মাথা ব্যথা করতে পারে।

‎প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন ও কেন করাবেনঃ

‎এই লক্ষণগুলো দেখা দেওয়া মানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, কারণ এগুলো অন্যান্য শারীরিক কারণেও হতে পারে। তাই নিশ্চিত হতে অবশ্যই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করাতে হবে।

‎নিয়মিত মাসিক হলে: পিরিয়ড মিস হওয়ার ঠিক পরের দিনই টেস্ট করুন।

‎অনিয়মিত মাসিক হলে: সর্বশেষ মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকে ৩৬ দিন পার হওয়ার পর টেস্ট করুন। যদি মাসিক অনিয়মিত হয়। আর যাদের নিয়মিত মাসিক হয় তাদের ২৮ দিন থেকে ৩০ দিন পর।

‎ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং হলে: রক্তপাত দেখে নিশ্চিত না হতে পারলে টেস্ট করিয়ে নেওয়া নিরাপদ।

‎কেন দ্রুত টেস্ট করানো জরুরি? গর্ভধারণ নিশ্চিত হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি রোধে দ্রুত ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন ভিটামিন গ্রহণ শুরু করতে হয়। এছাড়া বাচ্চার সুরক্ষায় চা, কফি বা ক্ষতিকর খাবার পরিহারের মতো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

‎বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি কেবল সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে রচিত। সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে যেকোনো শারীরিক পরিবর্তনের পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


Next Post
No Comment
Add Comment
comment url