সিলডেনাফিল বা টাডালাফিল জাতীয় ওষুধের কার্যকারিতা, ভুল ধারণা ও বাস্তবতা

সিলডেনাফিল বা টাডালাফিল জাতীয় ওয়ান টাইম ওষুধের কার্যকারিতা, ভুল ধারণা ও বাস্তবতা নিয়ে তথ্যবহুল ইনফোগ্রাফিক

যৌন স্বাস্থ্য বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন (Erectile Dysfunction) তথা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা নিয়ে আমাদের সমাজে আজও নানা ধরনের ভুল ধারণা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। বিশেষ করে পারফরমেন্স বাড়ানোর তথাকথিত 'ওয়ান টাইম' ওষুধগুলো খাওয়া নিয়ে মানুষের মনে নানা রকম ভয় ও আশঙ্কা থাকে।

আজকে আমরা আলোচনা করব সিলডেনাফিল (Sildenafil), টাডালাফিল (Tadalafil), অ্যাভেনাফিল (Avanafil) বা ভার্ডেনাফিল (Vardenafil)-এর মতো ওষুধগুলো নিয়ে এবং এর পেছনের প্রকৃত চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কে।

১. এই ওষুধগুলোর কাজ করার পদ্ধতি কী?

লিঙ্গ শক্ত না হওয়ার মূল কারণ হলো ওই অঞ্চলে পর্যাপ্ত রক্তের প্রবাহ বা ব্লাড ফ্লো (Blood Flow) না থাকা। এই ওষুধগুলোর কাজ অত্যন্ত সহজ—এগুলো রক্তনালিকার মধ্য দিয়ে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয়।

তবে মনে রাখবেন, এই ওষুধগুলো খাওয়ার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিঙ্গ শক্ত হয়ে যাবে—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। যৌন উদ্দীপনা বা সামান্য ইরেকশন তৈরি হলে এই ওষুধগুলো সেই ইরেকশনকে মেইনটেইন করতে বা এর পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।

২. ওষুধ খেলে কি কোনো বড় ক্ষতি বা সাইড ইফেক্ট হয়?

অনেকেরই ধারণা যে এই ওষুধগুলো খেলে লিভার, কিডনি বা হার্ট নষ্ট হয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সঠিকভাবে ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেলে এগুলো শরীরের বড় কোনো ক্ষতি করে না। তবে কিছু সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, যেমন:

  • মাথা ব্যথা
  • কোমর বা পা ব্যথা

বিশেষ সতর্কতা: যাদের আগে থেকেই হার্টের বা কার্ডিয়াক সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই ওষুধগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (Contraindicated)। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই জাতীয় ওষুধ দেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও বয়স বিবেচনা করে ইসিজি (ECG) বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নেন।

৩. ওষুধের ওপর কি শারীরিক নির্ভরশীলতা তৈরি হয়?

আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো—এই ওষুধ একবার খাওয়া শুরু করলে সারা জীবন এর ওপর নির্ভর থাকতে হয় এবং ওষুধ ছাড়া আর কখনো সেক্স করা যাবে না।

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধের কোনো ফিজিক্যাল ডিপেন্ডেন্স বা শারীরিক আসক্তি তৈরির গুণাগুণ নেই। এটি মূলত মানসিক নির্ভরশীলতা। দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা (যেমন ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ বা নার্ভের সমস্যা) পুরোপুরি সারিয়ে তোলার আগ পর্যন্ত এই ওষুধগুলোকে একটি 'সাপোর্ট' বা ইমার্জেন্সি খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ঠিক যেমন একটি বিল্ডিং তৈরির সময় ছাদ পাকা হওয়া পর্যন্ত বাঁশ বা কাঠের পিলার দিয়ে ধরে রাখতে হয়, তেমনি মূল কারণ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শে সাময়িকভাবে এই সাপোর্টটুকু নিতে হয়।

৪. ওষুধ খেয়েও সহবাস না করলে কি কোনো ক্ষতি হয়?

অনেকে ভয় পান যে—ওষুধ খাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহবাস না করলে কি ব্লাডে ওষুধ জমে ব্রেন, পেনিস বা শরীরে কোনো ক্ষতি বা ব্লাস্ট হবে কি না।

এ নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। ওষুধ খাওয়ার পর যদি সহবাস করা না হয়, তবে নির্দিষ্ট সময় পর শরীরের মেটাবলিজম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে (Half-life অনুযায়ী ৩-৪ ঘণ্টা থেকে শুরু করে ২৪ বা ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে) প্রাকৃতিকভাবেই তা শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এতে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না।

জরুরি পরামর্শ

কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিজে নিজে এই ধরনের ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। ওভার দ্য কাউন্টার ড্রাগ ছাড়া যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক, অন্যথায় হিতের বিপরীত হতে পারে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url